শিশুর জন্মের পর এবং বাড়ন্ত সময়ে নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব বরণ করা এক সময় ছিলো নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এখন টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে অনেক সংক্রামক রোগই বিলুপ্তির পথে।

এরই ধারাবাহিকতায় মডেল প্রকল্প হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের একশটি উপজেলার মধ্যে হাটহাজারীকে শতভাগ টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।  

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাটহাজারী উপজেলার ০-২৪ মাস বয়সী শতভাগ শিশু ইপিআই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬১টি টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হয়।

সরকারি হিসেবে, গত ২৪ বছরে শিশু মৃত্যুহার কমেছে ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে টিকাদান কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৫ সালের জরিপে দেখা যায়, ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের পূর্ণ টিকা প্রাপ্তির হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সময়ের পরিক্রমায় সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগে এখন টিকাদানের হার ৮২ শতাংশের বেশি।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইন জানান, একসময় পোলিও, যক্ষ্মা, হাম, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির মতো রোগের কারণে অনেক শিশুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে কষ্টের জীবন মেনে নিতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। হাটহাজারীতে শতভাগ টিকাদানে সাফল্য এসেছে।

সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, টিকাদানে হাটহাজারী উপজেলায় শতভাগ সফলতা অর্জন প্রশংসনীয়। এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ধীরে ধীরে অন্য সব উপজেলাকে শতভাগ টিকাদানের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here